শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর::
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

দাদন ব্যবসায়ী বাবলু গ্রেফতার, উলিপু‌রে আনন্দ মিছিল

উলিপুর প্রতি‌নি‌ধি
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ন



 চড়া সুদে দাদন ব্যবসা, চেক ডিজঅনার মামলা, মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত কুড়িগ্রামের উলিপুরের মমিনুল ইসলাম বাবলু গ্রেফতার হয়েছেন। তার গ্রেফতারের খবরে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপু‌রে উলিপুর বাজা‌রে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুর নগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল। প্রতারণার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাবলু উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙ্গা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার দুপুরে উলিপুর শহ‌রের মসজিদুল হুদার সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা।

তা‌দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সুদে টাকা ধার দেওয়ার আড়ালে নানা ধরনের হয়রানি ও প্রতারণা করে আসছিলেন বাবলু। কয়েক বছর সৌদি আরবে থাকার পর ২০২১ সালে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর নারীদের সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা এবং সেখানে তাদের অননুমোদিত কাজে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর কথা বলে জাল ভিসার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

মানববন্ধ‌নে ভুক্তভোগীরা জানান, অভাবগ্রস্ত মানুষের আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে চড়া সুদে টাকা ধার দিতেন বাবলু। ঋণ দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। পরে মূল টাকা পরিশোধ করার পরও কিংবা এক-দুই মাস সুদের টাকা দিতে না পারলে ওই চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি টাকা দাবি করা হতো বলে অভিযোগ তাদের। এমনকি দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী জেলায় মামলা করে ঋণগ্রহীতাদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব ঘটনায় উলিপুরের অন্তত ৩০টি পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাবলু রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ২০টি চেক ডিজঅনারের মামলা করেছেন। এসব মামলায় প্রকৃত পাওনার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ মন্ডল, মহন্ত বর্মন, দুলাল হোসেন ও জোবেদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন তারা। একাধিকবার মানববন্ধন করার পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT