সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্গাপূজার ছুটি শুরুর আগেই কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বদরপুর দাখিল মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদ্রাসাটির শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, দুপুর ১২টার দিকে ছুটি দিয়ে শিক্ষকেরা কক্সবাজার ভ্রমণে গেছেন। তবে ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিছুর রহমান আনিসের দাবি, নির্মাণকাজের শব্দে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভেতরের মাঠ ফাঁকা। শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে অফিসকক্ষ—সব কক্ষেই ঝুলছে সাদা রঙের তালা। প্রধান ফটকের সামনে একটি ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানে কয়েকজনকে আড্ডা দিতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে মাদ্রাসাটির চার-পাঁচজন শিক্ষার্থীও ছিল।
সাংবাদিকেরা শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, মাদ্রাসা কখন ছুটি হয়েছে। জবাবে তারা জানায়, দুপুর ১২টার দিকে ছুটি দিয়ে শিক্ষকেরা কক্সবাজার ভ্রমণে গেছেন। তবে শিক্ষকদের নাম জানতে চাইলে তারা অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
পাশের বাজারে কথা হয় কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে। তাঁদের অভিযোগ, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিছুর রহমান আনিস নিজের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগও করেন তাঁরা।
রাজীবপুরে ডিলারের সার গুদামে কৃষকদের হামলা
সময়ের আগেই মাদ্রাসায় তালা ঝোলানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিছুর রহমান আনিস বলেন, ‘একটি ক্লাস নিয়ে ছুটি দিয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার বহুতল ভবনের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। যন্ত্রের প্রচণ্ড শব্দে ক্লাস নেওয়া ব্যাহত হচ্ছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়ে ছুটি দিয়েছেন।
তবে সরেজমিনে গিয়ে ওই সময়ে বহুতল ভবনের ঢালাইয়ের কাজ চলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চালাতে হবে। কেউ নির্ধারিত সময়ের আগে প্রতিষ্ঠান ছুটি দিলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান বলেন, শব্দদূষণের বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত সুপার তাঁকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবে শিক্ষকদের ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা তাঁকে জানানো হয়নি।