কুড়িগ্রামের উলিপুরে নাজমা খাতুন (৩৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার জেরে অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি স্বজন ও স্থানীয়দের।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমা তার মা অলিমা বেগম ও ভাই রহিমুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন। গত এক বছর ধরে শাহিনুর ইসলাম পলাশ নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ওই যুবক নাজমার বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে জানা যায়, ওই যুবক হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। তার বাড়ি একই উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের খোচাবাড়ি এলাকায় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার মধ্যস্থতায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক লাখ ১৬ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
তাদের দাবি, জরিমানার ৭০ হাজার টাকা নাজমার মামা ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলে কাদির এবং বাকি টাকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক শফি কামালসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভাগ করে নেন।
এ ঘটনার জেরে রোববার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নাজমা একটি পরিত্যক্ত ঘরে গলায় ফাঁস দেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্বজনরা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
ধামশ্রেণি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল বলেন, আমি পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদলের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পারি। পরে মিটিংয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকিনি। সমঝোতা না হওয়ায় আগেই চলে আসি। পরে শুনেছি, উভয় পক্ষের সম্মতিতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতেই টাকা-পয়সার লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
ধামশ্রেণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, উলিপুর বাজারে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হায়দার আলী মিঞার শোরুমে তার উপস্থিতিতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। জরিমানার সমুদয় অর্থ মেয়ের মামার হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহতের মামা ও ধামশ্রেণি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলে কাদের বলেন, মিটিংয়ে বসে জানতে পারি, ছেলেটি হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় আমার ভাগনি নাজমা তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। পরে এক লাখ ২০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই টাকা আমাকে দেওয়া হলে আমি আমার বোনের পরিবারের কাছে তা দিয়ে দিই।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।