বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

কুড়িগ্রামে খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন



কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে সরকারি চাল ও ধানের মজুতে অনিয়ম এবং ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামে মামলাটি করা হয়। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হামিদুল হক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। গত ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল সদর খাদ্যগুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকে অভিযান চালায়। এ সময় নথির সঙ্গে বাস্তব মজুতের হিসাব মিলিয়ে ৪২ দশমিক ২০৫ মেট্রিক টন চাল কম পাওয়া যায়। এর মূল্য ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা।

এ ছাড়া খলিলগঞ্জ ব্লকের একটি গুদামে ২৪০ মেট্রিক টন ধানের বিল পরিশোধের তথ্য থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ১৯০ মেট্রিক টন। বাকি ৫০ মেট্রিক টনের সন্ধান মেলেনি। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য একটি অটো রাইস মিলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটির কাছে মিলটির মালিক জানান, সেখানে কোনো ধান পাঠানো হয়নি।

একই গুদামের নথিতে আরও ৪৭১ মেট্রিক টন ধানের হিসাব পাওয়া গেলেও বাস্তব মজুত বা সংগ্রহের পক্ষে সমর্থনকারী তথ্য মেলেনি। দুদকের হিসাবে, এসব ধানের মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

চাল ও ধানের হিসাবের এসব অসংগতিতে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকার সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, শিশু নিকেতন ব্লকের একটি গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন স্থানে নথিবহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যায়। এর সংগ্রহ, ওজন, মান, মজুত ও পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। চালগুলোর মূল্য ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। গত ১২ জানুয়ারি চালগুলো জব্দ করে জিম্মায় দেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহসংক্রান্ত রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি ও ব্যবহার করে এসব খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায়ও অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালায়। পরে এ বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ে আবেদন পাঠানো হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT