কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার খিতাবখা গ্রামের ৮৫ বছরের জবের আলী। ২০২০ সালে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের অংশবিশেষ ভেঙে তাঁর ভিটেমাটি বিলীন হয় তিস্তায়। এরপর থেকে বাঁধের ধারে বসবাস করছেন তিনি।
সপ্তাহ দুয়েক আগে তিস্তার পানির তোড়ে ক্রসবাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জবের আলীর মতো তিস্তাপারের অনেক মানুষ ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
রাজারহাটের রামহরি গ্রামের আব্দুল মজিদ ৩০ বছর আগে নদীভাঙনে ভিটে হারিয়ে বাঁধের ধারে বসতি গড়েছেন। তাঁর ফসলি জমিও তিস্তায় বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরি শুনি নদী খুঁড়বে, পাড় বাইন্ধবে। সরকার আইসে, সরকার যায়—হামার আশা পূরণ হয় না।’
নির্বাচনের আগে তিস্তা বাঁচানোর আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিস্তাপারের মানুষ। মশাল মিছিল ও গানের সুরে মুখর হয়েছিল নদীপাড়। তবে আন্দোলনের পরও নদীভাঙন বন্ধ না হওয়ায় হতাশা কাটেনি তাঁদের। খিতাবখা গ্রামের গৃহবধূ মমতা বেগম বলেন, ‘ভোটের আগে তিস্তা বাঁচাই। ভোট বের হইলে তিস্তা মরে।’
রাজারহাটের গতিয়াশাম, রামহরি, খিতাবখা, গাবুরহেলান, ডাংরা, রতি এবং উলিপুরের ঠুটাপাইকর, হোকডাঙা ও চিলমারীর চর বজরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন আতঙ্ক রয়েছে। অনেক গ্রাম ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ক্রসবাঁধের ভাঙা অংশে জিও ব্যাগ ফেলে মেরামতের কাজ চলছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে তিস্তার আরও পাঁচ-ছয়টি পয়েন্ট ভাঙনপ্রবণ। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে সেসব এলাকায় ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হবে।