মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর::
তেলের বাড়‌তি দামে চরের কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ কুড়িগ্রামে তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের কার্যক্রম পরিদর্শনে ১১ প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা চিলমারী‌তে টাকা জমা দেওয়ার এক বছর পরও মিলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ, ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চাওয়ার দাবি উলিপুরে মাদকসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি   কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৬ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ দেশ ও স্বাস্থ্যখাতে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে ড্যাবের মানববন্ধন কৃষিজমি ও বনভূমিতে রিসোর্ট, সাভারে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা উলিপুরে ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার বনানী থেকে আজিমপুর, ঢাকায় কবরের জায়গাতেও তীব্র সংকট
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

তেলের বাড়‌তি দামে চরের কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

রাজারহাট প্রতি‌নি‌ধি
Update : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ন



কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ। চারদিকে নদী, মাঝখানে বিস্তীর্ণ চর। বর্ষায় পানির সঙ্গে যুদ্ধ, শুষ্ক মৌসুমে বালুচরে ফসল ফলানোর লড়াই। এই চরের কৃষকদের সেচের একমাত্র ভরসা স্যালো মেশিন। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় ধানে শীষ আসার সময়ও সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

চরের জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বৈদ্যুতিক মোটর না থাকায় ডিজেলচালিত স্যালো মেশিনেই সেচ দিতে হয়। চর বিদ্যানন্দ গ্রামের কৃষক মনসুর আলী (৫০) জানান, আমন মৌসুমে তাঁর প্রায় এক ব্যারেল ডিজেল লাগে। খরা মৌসুমে প্রয়োজন হয় দুই ব্যারেল পর্যন্ত।

প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৫৯ লিটার ডিজেল ধরে। আগে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা হিসাবে এক ব্যারেলের দাম ছিল ১৮ হাজার ২৮৫ টাকা। এখন লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা হওয়ায় একই পরিমাণ ডিজেলের দাম প্রায় ২১ হাজার ৪৬৫ টাকা। অর্থাৎ এক ব্যারেলেই বাড়তি খরচ ৩ হাজার ১৮০ টাকা।

মনসুর আলী বলেন, ‘চরের জমিতে বিদ্যুৎ নেই, মোটর নেই। স্যালো মেশিনই একমাত্র ভরসা। পকেটে টাকা নেই, তাই মেশিন বাড়িতে এনে রেখেছি। তেল কিনব কী দিয়ে?’

ধানের শীষ আসতে শুরু করায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এখন পানি না দিতে পারলে এতদিনের আবাদই গচ্ছা যাবে। তেল না কিনলে সেচ দেব কীভাবে?’

সেচের পাশাপাশি নৌকা ভাড়া ও কৃষি উপকরণ পরিবহনেও বাড়তি খরচের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। মনসুর আলী বলেন, চরে রাস্তাঘাট না থাকায় নদী পারাপারে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। যাতায়াতেই প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। সার-বীজ আনতেও নদীর ওপারে যেতে হয়।

চর বিদ্যানন্দের আরেক কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে নৌকার ভাড়াও বাড়বে। সেচ, সার-বীজ আনা ও ফসল পরিবহনের খরচও বাড়বে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।’

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘জ্বালানির দামের বিষয়টি সরকার নির্ধারণ করে। তবে এর প্রভাব কৃষিতে অবশ্যই পড়বে। সাময়িক কষ্ট হবে। জ্বালানির দাম কমলে কৃষকের কষ্টও কমবে।’

চর বিদ্যানন্দের মাঠে এখন আমন ধানে শীষ আসতে শুরু করেছে। ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। কিন্তু সেই ফসল বাঁচাতে প্রয়োজন পানি, আর পানি তুলতে প্রয়োজন ডিজেল। তাই ধানের শীষের পাশে তাঁদের বড় দুশ্চিন্তা—তেল কেনার টাকা জোগাড় হবে তো?


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT