চরের জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও বৈদ্যুতিক মোটর না থাকায় ডিজেলচালিত স্যালো মেশিনেই সেচ দিতে হয়। চর বিদ্যানন্দ গ্রামের কৃষক মনসুর আলী (৫০) জানান, আমন মৌসুমে তাঁর প্রায় এক ব্যারেল ডিজেল লাগে। খরা মৌসুমে প্রয়োজন হয় দুই ব্যারেল পর্যন্ত।
প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৫৯ লিটার ডিজেল ধরে। আগে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা হিসাবে এক ব্যারেলের দাম ছিল ১৮ হাজার ২৮৫ টাকা। এখন লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা হওয়ায় একই পরিমাণ ডিজেলের দাম প্রায় ২১ হাজার ৪৬৫ টাকা। অর্থাৎ এক ব্যারেলেই বাড়তি খরচ ৩ হাজার ১৮০ টাকা।
মনসুর আলী বলেন, ‘চরের জমিতে বিদ্যুৎ নেই, মোটর নেই। স্যালো মেশিনই একমাত্র ভরসা। পকেটে টাকা নেই, তাই মেশিন বাড়িতে এনে রেখেছি। তেল কিনব কী দিয়ে?’
ধানের শীষ আসতে শুরু করায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এখন পানি না দিতে পারলে এতদিনের আবাদই গচ্ছা যাবে। তেল না কিনলে সেচ দেব কীভাবে?’
সেচের পাশাপাশি নৌকা ভাড়া ও কৃষি উপকরণ পরিবহনেও বাড়তি খরচের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। মনসুর আলী বলেন, চরে রাস্তাঘাট না থাকায় নদী পারাপারে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। যাতায়াতেই প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। সার-বীজ আনতেও নদীর ওপারে যেতে হয়।
চর বিদ্যানন্দের আরেক কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে নৌকার ভাড়াও বাড়বে। সেচ, সার-বীজ আনা ও ফসল পরিবহনের খরচও বাড়বে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।’
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘জ্বালানির দামের বিষয়টি সরকার নির্ধারণ করে। তবে এর প্রভাব কৃষিতে অবশ্যই পড়বে। সাময়িক কষ্ট হবে। জ্বালানির দাম কমলে কৃষকের কষ্টও কমবে।’
চর বিদ্যানন্দের মাঠে এখন আমন ধানে শীষ আসতে শুরু করেছে। ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। কিন্তু সেই ফসল বাঁচাতে প্রয়োজন পানি, আর পানি তুলতে প্রয়োজন ডিজেল। তাই ধানের শীষের পাশে তাঁদের বড় দুশ্চিন্তা—তেল কেনার টাকা জোগাড় হবে তো?