ঈদ মানেই একসময় ছিল নতুন পোশাক, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কোলাকুলি আর পারিবারিক আনন্দঘন সময় কাটানো। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন এক মাত্রা । ক্যামেরাবন্দি ঈদ উদযাপন। এখন ঈদের আনন্দ শুধু অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ধরা পড়ছে মোবাইল ফোনের ক্যামেরার ফ্রেমে।
সরেজমিনে দেখা গেছে উলিপুরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদ রাত থেকেই শুরু হয়েছে এই ব্যস্ততা। নতুন পোশাক পরে সেলফি তোলা, বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ ছবি কিংবা ছোট ছোট ভিডিও । সবকিছুই এখন তরুণদের ঈদ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ঈদের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে ছবি তোলা ও ভিডিও তৈরির ধুম।
উলিপুরের স্থানীয় এক তরুণ বায়েজিদ আলম জানান, “ঈদ মানেই এখন ছবি তোলা। ফেসবুকে ছবি আপলোড না দিলে মনে হয় যেন ঈদটাই ঠিকমতো উদযাপন হলো না।” আরেক তরুণী বলেন, “আমরা বন্ধুরা আগে থেকেই ঠিক করি কোথায় গিয়ে ছবি তুলব, কী ধরনের রিল বানাবো। এটা এখন এক ধরনের ট্রেন্ড।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতা এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে নিজেদের মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তরুণরা। লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের মাধ্যমে তারা যেন নতুন করে উপভোগ করছেন ঈদের আনন্দ। অনেকেই আবার নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছেন এই প্ল্যাটফর্মগুলো।
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে সমাজের একাংশে। অনেক অভিভাবকের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও সেলফি সংস্কৃতির কারণে কমে যাচ্ছে পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর প্রবণতা। এক বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, “আগে ঈদের দিনে সবাই একসাথে বসে গল্প করত, এখন সবাই ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এতে করে পারিবারিক বন্ধন কিছুটা হলেও দুর্বল হচ্ছে।”
তবুও প্রযুক্তির এই যুগে উদযাপনের ধরন বদলাবে এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন অনেকেই। তাদের মতে, স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ছবি ও ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদের আনন্দ এখন আরও রঙিন ও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।