কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবনে আবারও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের করিডোরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও আউটডোর ও ইনডোরে রোগীদের ভিড় ছিল। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই পুরাতন ভবনের একটি করিডোরের ছাদের পলেস্তারা বিকট শব্দে ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ইট, বালু ও কংক্রিটের বড় বড় টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার সময় সেখান দিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী যাতায়াত করলেও তারা অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তরিকুল ইসলাম বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা নিতে আসা মানে জীবন বাজি রাখা।” শুধু রোগী নন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাও প্রতিনিয়ত এই জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং জরাজীর্ণ। এর আগেও কয়েক দফা পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে কিছু সংস্কার করা হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বারবার জানানোর পরও কার্যকর সংস্কার বা নতুন ভবনের বরাদ্দ না আসায় দিন দিন ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরাজীর্ণ এই ভবনটি দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। অন্যথায় বড় কোনো প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।