কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় ভোগান্তি কমেনি স্থানীয় মানুষের। ফলে পাঁচ গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষকে ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এ পথে যাতায়াতকারী প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীকেও প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই কালভার্টটির বরাদ্দের প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে
গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত নয়টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। তিন অর্থবছর শেষে প্রকল্পটির আটটি কালভার্ট নির্মাণ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট ইউনিয়নের নাটুয়া মহল পরেশের বাড়ি সংলগ্ন কালভার্টটিও রয়েছে।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, নাটুয়া মহলের কালভার্টটি নির্মাণে ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৮২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই এ পর্যন্ত ২৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা, অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য পুরোনো কালভার্ট ও সড়ক ভেঙে ফেলেন ঠিকাদার। পরে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর প্রায় চার মাস আগে কালভার্টটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। কিন্তু কালভার্টের দুই পাশে সংযোগ সড়ক আর নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে সড়ক থেকে কালভার্টে ওঠার জন্য বাঁশ দিয়ে একটি উঁচু মাচা তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তা কেটে কালভার্ট বানানো হয়েছে, এখন আবার রাস্তা করে দিচ্ছে না।
পরেশ বর্মন বলেন, আগে রাস্তা ছিল। পুরোনো ব্রিজটি ভাঙা থাকলেও হেঁটে যাওয়া যেত। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু রাস্তা নেই।
অটোচালক গোবিন্দ চন্দ্র বলেন, এক-দেড় হাত উঁচু হলে কোনোভাবে যাওয়া যেত। কিন্তু কালভার্টটি প্রায় ছয় ফুট উঁচু। এভাবে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে সিংগার ডাবরীহাট হয়ে যেতে হয়।
স্থানীয় সুশীল চন্দ্র রায় বলেন, “আমার ছেলের বউয়ের প্রসববেদনা উঠলে অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলাম। রাস্তা না থাকায় ঘুরে আসতে সময় লাগবে বলে অ্যাম্বুলেন্স আসেনি। পরে অটোতে করে নিয়ে গেছি। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ারও উপায় নেই।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শামকালিয়া, রামপাড়া, নয়াবাড়ি, পোদ্দারপাড়া ও চেতনা গ্রামের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। এ ছাড়া সিংগার ডাবরীহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সিংগার ডাবরীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিংগার ডাবরীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শিশু নিকেতন স্কুল, এডুকেয়ার প্রি-ক্যাডেট স্কুল ও সিংগার ডাবরীহাট দাখিল মাদরাসার প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে।
সিংগার ডাবরীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবনী রায় বলেন, আমাদের এলাকার সব শিক্ষার্থীকে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। কেউ কেউ হেঁটেও যায়। এতে সময় ও কষ্ট দুটোই বেশি হয়। রাস্তা ভালো থাকলে দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারতাম।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পানি থাকার কারণে কাজটি সম্পূর্ণ হয়নি। তবে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হয়নি।##