বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সামনে একটি লাল চিহ্নিত মানচিত্র প্রদর্শন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নড়াইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় সারের সংকট দেখানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—এমন এলাকায় সারের সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বিএনপিকে বিতর্কিত করার জন্য, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য যে এলাকায় তারা নির্বাচিত, সেই এলাকায় তাদের নেতা-কর্মীদের দিয়ে সারের সংকট তৈরি করে আমাদের হেয় করার চেষ্টা করেছে।’
কুড়িগ্রামে সারের সংকট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যে সময়ে সংকটের কথা বলা হয়েছে, তখন দেশের কোথাও প্রকৃত সংকট ছিল না। তাঁর অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দল ও আগের সরকারের নিয়োগ করা কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগের ডিলারদের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একজন করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছে। যেসব এলাকায় ডিলার পালিয়ে গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, সেসব শূন্য পদেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও জ্বালানি সংকট নিয়ে লং মার্চ করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে শত শত গাড়ির বহর নিয়ে লং মার্চ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পায়ে হেঁটে করলে সেটি লং মার্চ, গাড়ির বহর নিয়ে করলে রোড মার্চ বলা উচিত ছিল।
পরে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা ও কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন সভায় অংশ নেন।
এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হক চৌধুরী ডন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মমিনুল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।