গরু পারাপারের সময় বাংলাদেশি ভেবে ভারতের দুই নাগরিককে আটক করে গুলি করার পর কুড়িগ্রামের সীমান্তে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। রোববার মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের দইখাওয়া বিজিবি ক্যাম্প এলাকার আইরমারীর চর সীমান্তে তাদের ফেলে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পরে সোমবার স্থানীয় দুই ব্যক্তি আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের আটক করে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালটিতে তাদের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন আবদুল আলীম ও ইসমাইল হোসেন। তারা ভারতের আসাম রাজ্যের সুখচর থানার দক্ষিণ সালমারা ও মাইনকার চর এলাকার বাসিন্দা। আবদুল আলীম আবদুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে এবং ইসমাইল হোসেন মৃত আবদুল করিম শেখের ছেলে।
আহত ইসমাইল হোসেন বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাংলাদেশি ভেবে আটক করেন। পরে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে নিয়ে এসে গুলি করে ফেলে রেখে যায়। এরপর আইরমারীর চর এলাকার দুই ব্যক্তি তাদের উদ্ধার করেন। ৫ অক্টোবর তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, দুই ভারতীয় নাগরিককে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।
তবে কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া মুখপাত্র জাহিদ বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত লালমনিরহাট বিজিবি, কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবি ও জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীনে তিন ভাগে বিভক্ত। কুড়িগ্রাম সীমান্তে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
আইরমারীর চর দিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দইখাওয়া বিজিবি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। আইরমারীর চর দইখাওয়া বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাইরে হতে পারে।