বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর::
মাদানী অ্যাভিনিউয়ে সড়ক দখল, পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে কু‌ড়িগ্রা‌মে মাদকাসক্ত ছে‌লের হা‌তে মা‌য়ের মৃত‌্যু, আহত বাবা উলিপু‌রে সরকারি জায়গায় জেনারেটর বসিয়ে কক্ষ নির্মাণ, বন্ধ করল প্রশাসন ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার উলিপুরে দুর্যোগ মোকাবিলায় মহড়া, পালিত হলো আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস   নিভৃত পল্লীতে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে সাকসেস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ফুলবাড়ীতে জুয়ার আসর থেকে ৬ জুয়া‌রি গ্রেপ্তার উলিপুরে বি‌রো‌ধের জে‌রে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুরের অ‌ভি‌যোগ ৭ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে না উলিপুর নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির একাংশের বিক্ষোভ
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

একটি কিডনির জন্য থমকে গেছে সজিবের জীবন

চিলমারী প্রতি‌নি‌ধি
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ন



‘আমার ছোট্ট মেয়েটার জন্য বাঁচতে চাই। ওর মুখের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমার বেঁচে থাকা দরকার।’ কুড়িগ্রামের চিলমারীর সবুজপাড়া এলাকার মো. সজিব মিয়া (২৮) এভাবেই বলছিলেন নিজের বেঁচে থাকার আকুতির কথা। দীর্ঘ নয় বছর ধরে ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর দুই কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেছে। চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবারটির পক্ষে সেই খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, সজিবের বাম কিডনি ১১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডান কিডনি ১৭ দশমিক ১ শতাংশ কাজ করছে। উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে প্রতিস্থাপনে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এবং ডোনার না পাওয়া গেলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানান তিনি।

২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন সজিব। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন। পরিবারের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও দুই দফা চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ধীরে ধীরে কমেছে তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা।

অসুস্থ হওয়ার আগে গাজীপুর ও ঢাকার তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজিব। এখন কোনো আয় নেই। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনটি গরু ও গাছপালা বিক্রি এবং প্রায় ছয় শতক জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঋণও নেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একবার ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পেলেও এরপর বড় কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।

সজিবের ৭৫ বছর বয়সী বাবা ছেলেকে একটি কিডনি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকেরা তাঁকে ডোনার হিসেবে উপযুক্ত মনে করেননি।

সজিব বলেন, ‘আমার ছোট্ট মেয়েটার মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, আমি বাঁচতে চাই। ওর জন্য হলেও বাঁচতে চাই।’

কিডনি প্রতিস্থাপনের অর্থ ও উপযুক্ত ডোনারের সন্ধানে সহায়তা চান সজিব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে নতুন জীবন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা তাঁর।


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT