রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর::
ভূরুঙ্গামারীতে সমবায় দিবস পালন, ২০০ গাছের চারা বিতরণ উলিপুরে সোমবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, দূষণের কবলে অভিজাত এলাকাও কুড়িগ্রামে গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবির ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নভেম্বরে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানসহ পাঁচ দেশের লড়াই উলিপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কুড়িগ্রামে ছুরিকাঘাতে পৌর কর্মচারী নিহত, স্ত্রী আহত ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
Update : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ন




দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নাশকতা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের ভেতর কিংবা বাইরে থেকে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রই জনগণের ঐক্য ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্রের জবাব ঐক্যবদ্ধভাবেই দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও কোনো অপশক্তির কাছে নত হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, বিরোধী দলের সরকারবিরোধী কর্মসূচি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, পোশাকশ্রমিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী সংগঠন এবং তাদের পলাতক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তবে শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে কেবল রাজনৈতিক কারণ নয়, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি, অর্থনৈতিক চাপ এবং শিল্পখাতের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব ও শ্রমিকদের বাস্তব দাবির বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারকে চাপে ফেলতে শ্রমিকদের ব্যবহার করছে। তাদের প্রশ্ন, শ্রমিকদের আন্দোলন কি শুধুই অধিকার আদায়ের কর্মসূচি, নাকি এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে। মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে যুক্ত হয়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা উসকে দিচ্ছেন—এমন অভিযোগও করেছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও তাদের অনুসারীদের একটি অংশ বর্তমান অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে সরকার। কিন্তু একই সময়ে প্রধান বিরোধী দল ও তাদের শরিকদের সরকারবিরোধী কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এর সূচনা হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর এবং সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে তৃতীয় দফার লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তৃতায় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনার পাশাপাশি সরকারবিরোধী কঠোর বক্তব্যও এসেছে। কোথাও কোথাও সরকার পতন এবং নতুন আন্দোলনের কথাও বলা হয়েছে। সামনে বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

এ অবস্থায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিরোধী দল কেন এতটা কঠোর কর্মসূচি নিচ্ছে। সংসদের বাইরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিরোধী দল কী ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকার ও বিরোধী পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান পলাতক রাজনৈতিক শক্তি কিংবা অন্য কোনো স্বার্থান্বেষী মহলকে অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য নাশকতার ঘটনাকে তারা উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর, খিলগাঁও ও মিরপুরের কালশী এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে বারিধারার প্রগতি সরণিতে বৈশাখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এর আগের দিন রাজধানীর রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের সামনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িটির চালক আহত হন। মিরপুর-১২ নম্বর এলাকাতেও একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে বাসের কর্মী ও স্থানীয়দের তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এক রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংঘাত ও বিভাজন বাড়লে এর সুযোগ নিতে পারে নানা পক্ষ। জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যের কথা বলা হয়েছিল, সেই ঐক্য দুর্বল হলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়লে অর্থনীতি, শিল্প ও জনজীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে নাশকতা, সহিংসতা ও দেশবিরোধী যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৭ নভেম্বরের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যেও সেই ঐক্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি এবং সাধারণ জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাই সামনে এসেছে। নাশকতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থে সমন্বিত অবস্থানই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT