‘আমার ছোট্ট মেয়েটার জন্য বাঁচতে চাই। ওর মুখের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমার বেঁচে থাকা দরকার।’ কুড়িগ্রামের চিলমারীর সবুজপাড়া এলাকার মো. সজিব মিয়া (২৮) এভাবেই বলছিলেন নিজের বেঁচে থাকার আকুতির কথা। দীর্ঘ নয় বছর ধরে ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর দুই কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেছে। চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবারটির পক্ষে সেই খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, সজিবের বাম কিডনি ১১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডান কিডনি ১৭ দশমিক ১ শতাংশ কাজ করছে। উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে প্রতিস্থাপনে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এবং ডোনার না পাওয়া গেলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানান তিনি।
২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন সজিব। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন। পরিবারের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও দুই দফা চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ধীরে ধীরে কমেছে তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা।
অসুস্থ হওয়ার আগে গাজীপুর ও ঢাকার তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজিব। এখন কোনো আয় নেই। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনটি গরু ও গাছপালা বিক্রি এবং প্রায় ছয় শতক জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঋণও নেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একবার ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পেলেও এরপর বড় কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।
সজিবের ৭৫ বছর বয়সী বাবা ছেলেকে একটি কিডনি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকেরা তাঁকে ডোনার হিসেবে উপযুক্ত মনে করেননি।
সজিব বলেন, ‘আমার ছোট্ট মেয়েটার মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, আমি বাঁচতে চাই। ওর জন্য হলেও বাঁচতে চাই।’
কিডনি প্রতিস্থাপনের অর্থ ও উপযুক্ত ডোনারের সন্ধানে সহায়তা চান সজিব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে নতুন জীবন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা তাঁর।