কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আলহাজ্ব ছাইফুর রহমান ও তৈয়ব আলী দীর্ঘ ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনেছেন। বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুই শিক্ষক। তাঁদের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই শিক্ষককে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক আইয়ুব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার (মাধ্যমিক) আব্দুস ছালাম।
এ সময় বক্তব্য দেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সামছুল হুদা বাবুল মাস্টার, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার ও সাবেক শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম। এ ছাড়া শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে ছাইফুর রহমান ও তৈয়ব আলী সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নেও তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন।
বিদায়ী দুই শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ ৩০ বছর শিক্ষকতা করতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। কর্মজীবনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।’ কর্মজীবনে কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তাঁরা সবার কাছে ক্ষমা চান এবং অবসর-পরবর্তী জীবনের জন্য দোয়া কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘দুই শিক্ষক দীর্ঘদিন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের অবদান প্রতিষ্ঠানটি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে সহকর্মী, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা মাইক্রোবাসে করে দুই শিক্ষককে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। বিদায়ের সময় অনেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকের চোখে ছিল অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা।