মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

কোরবানির ফজিলত

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ন



ভূমিকা

ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা ঈদুল আযহা উপলক্ষে আদায় করা হয়। কোরবানি শুধু একটি ধর্মীয় রীতি নয়, এটি ত্যাগ, আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভক্তির বহিঃপ্রকাশ। মুসলিম উম্মাহর জন্য কোরবানি হচ্ছে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ)-এর স্মরণীয় আত্মত্যাগের অনুসরণ।

কোরবানির তাৎপর্য

কোরবানি শব্দটি ‘কুরবুন’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। অর্থাৎ, কোরবানি দ্বারা মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। ঈদুল আযহার দিন থেকে শুরু করে তিন দিন (১০-১২ জিলহজ) পর্যন্ত এই ইবাদত আদায় করা হয়। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য এটি ওয়াজিব।

কোরবানির ফজিলতসমূহ

🕌 ১. আল্লাহর নিকট প্রিয়তম ইবাদত

ঈদের দিন সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“মানুষ ঈদুল আযহার দিনে যে আমল করে, তার চেয়ে প্রিয় আমল আল্লাহর কাছে আর কিছু নেই পশু কোরবানির চেয়ে।”
(তিরমিযী: ১৪৯৩)

🐑 ২. প্রতিটি পশম ও চুলের বিনিময়ে নেকি

একটি পশুর শরীরে যত পশম ও লোম থাকে, প্রতিটি লোমের জন্য সওয়াব লেখা হয়।
হাদিসে আছে:
“প্রত্যেক চুলের জন্য এক একটি সওয়াব দেয়া হবে।”
(ইবনে মাজাহ: ৩১২৭)

📖 ৩. কোরবানির পশু কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দেবে

কোরবানির পশু কিয়ামতের দিন শিং, খুর ও লোমসহ হাজির হবে এবং তা তোমার আমলের ওজন বাড়াবে।
(তিরমিযী: ১৪৯২)

🕋 ৪. হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর সুন্নাত

এই ইবাদত হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর সেই ঐতিহাসিক ত্যাগের অনুসরণ, যেখানে তিনি আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আঃ)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন।

❤️ ৫. তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম

আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“আল্লাহর কাছে তাদের গোশত ও রক্ত পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
(সূরা হজ্জ: ৩৭)

সমাজে কোরবানির প্রভাব

কোরবানির মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ পায় পুষ্টিকর খাবার। এটি সামাজিক সহানুভূতি ও সংহতির একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উপসংহার

কোরবানি শুধু রক্ত বা গোশতের বিষয় নয়, এটি আত্মত্যাগ, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। একজন মুমিন কোরবানির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি লাভ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে। তাই আমাদের উচিত কোরবানিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা মনে না করে, বরং আন্তরিকভাবে এই ইবাদত আদায় করা।

📢 শেষ কথায়:
আসন্ন ঈদুল আযহায় আমরা যেন কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করি এবং ত্যাগের আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলি—এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

 


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT