বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর::
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

জুমার দিনে দোয়া কবুলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশেষ মুহূর্ত হলো আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ন



জুমার দিনে দোয়া কবুলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশেষ মুহূর্ত হলো আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টুকু। এছাড়াও জুমার নামাজে ইমাম যখন খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে বসেন, তখন থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টিকেও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।

জুমার দিন এই বরকতময় সময়গুলোতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা এবং নিজের নেক মাকসুদ হাসিলের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত ।

জুমার দিনে দোয়া কবুলের মুহূর্ত নিয়ে বর্ণিত প্রধান হাদিসগুলো উল্লেখ করা হলো:

১. সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিস (সাধারণ বর্ণনা):আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি কোনো মুসলিম বান্দা সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন”। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়েছিলেন যে, এই সময়টি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।

২. সহিহ মুসলিমের হাদিস (খুতবা ও নামাজের সময়):আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সেই মুহূর্তটি হলো ইমাম (খুতবা দেওয়ার জন্য) মিম্বরে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে”। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৩)।

৩. আবু দাউদ ও নাসায়ির হাদিস (আসরের পর):জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দেন; তোমরা সেই মুহূর্তটিকে আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো”। (আবু দাউদ, হাদিস নং: ১০৪৮; নাসায়ি, হাদিস নং: ১৩৮৯)।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর মতে, এই দুটি মতই সবচেয়ে শক্তিশালী । তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, আসরের শেষ সময়টিই (সূর্যাস্তের ঠিক আগে) দোয়া কবুলের জন্য অধিকতর সম্ভাব্য মুহূর্ত।

জুমার দিনে দোয়া কবুলের মুহূর্তগুলো ছাড়াও এই দিনের আরও কিছু বিশেষ আমল ও দরুদ পাঠের নিয়ম রয়েছে যা হাদিস দ্বারা সমর্থিত। বিশেষ আমলসমূহ তুলে ধরা হলো:

১. সূরা কাহফ তেলাওয়াত: জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত পাঠকারীর জন্য একটি বিশেষ নূর (আলো) চমকাতে থাকে। কেউ যদি এই সূরার প্রথম বা শেষ ১০টি আয়াত মুখস্থ করে, তবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।

২. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: জুমার নামাজের জন্য উত্তমরূপে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং মিসওয়াক করা সুন্নাত।

৩. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া: জুমার নামাজের জন্য যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে যাওয়া অনেক বেশি সওয়াবের কাজ। ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে আগমনকারীদের নাম ক্রমানুসারে লিখতে থাকেন।

দরুদ পাঠের গুরুত্ব ও বিশেষ নিয়ম:

জুমার দিনে নবীজীর (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করা সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি, কারণ এই দিনের দরুদ সরাসরি তাঁর কাছে পেশ করা হয়।সংক্ষিপ্ত দরুদ: সবচেয়ে ছোট দরুদ হলো ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’। একটি বর্ণনায় এসেছে, জুমার দিন আসরের নামাজের পর নিজের স্থান থেকে না উঠে যদি কেউ ৮০ বার এই দরুদটি পাঠ করে: “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা”তবে আল্লাহ তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেন এবং ৮০ বছরের ইবাদতের সওয়াব দান করেন।

জুমার দিন ও রাতে অন্তত ১০০ বার বা তার বেশি দরুদ পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।

জুমার দিনে অন্যান্য আমল:

খুতবার সময় কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করা এবং আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা।


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT