সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর::
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

নাগেশ্বরীতে ১৬ লাখ টাকায় কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ, আত্মগোপনে সুপার

না‌গেশ্বরী প্রতি‌নি‌ধি
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ন



কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একটি দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে গোপনে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুপারিনটেনডেন্ট ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। নিয়োগে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া রেজুলেশন তৈরির অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যদের একাংশ। অভিযোগ ওঠার পর থেকে সুপারিনটেনডেন্টের অনুপস্থিতি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

ঘটনাটি নাগেশ্বরী উপজেলার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার। অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীকে মাদ্রাসা ও বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দাবি, নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উলিপুরে মাদরাসায় গোপনে নিয়োগের অভিযোগ,  অ‌র্থের বি‌নিময় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও সভাপতি আনোয়ার হোসেন নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে গোপনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিলের কাছ থেকে এ জন্য ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষক-কর্মচারী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের দাবি, গত ৬ অক্টোবর নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই দিন সুপারিনটেনডেন্টকে কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি আর নিয়মিত মাদ্রাসায় আসছেন না।

গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, নিয়োগের জন্য তৈরি রেজুলেশনে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপারিনটেনডেন্ট যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘কোনো নিয়মনীতি না মেনে এবং আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

তবে মাদ্রাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডে মহাপরিচালকের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রামের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT