তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাতরা পোকার আক্রমণ থেকে আমন ধান রক্ষায় নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করে আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করতে হবে। আক্রান্ত জমিতে বালাইনাশক নাশক স্প্রে করতে হবে। যেসব গাছ আক্রান্ত হয়েছে সেসব গাছ কেটে আগুনে পুড়ে ফেলত হবে এবং আক্রান্ত জায়গার গাছ কাটার পর মাটিতে স্প্রে করতে হবে। দিনের শেষভাগে অন্তত পরপর দুইবার তিন থেকে পাঁচ দিনের মাথায় বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে। আক্রান্ত জমিতে সেচ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। আক্রান্ত গাছের সংখ্যা ও পোকার বিস্তার বিবেচনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিতে হবে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষিতে এর প্রভাব পড়ছে। এতে ফসলে নানা রোগবালাই এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে।
উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের খাওনারদরগা এলাকার কৃষক আকবর আলী বলেন, এ মৌসুমে এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান লাগাইছি। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ছাতরা পোকা আক্রমণ করেছে। এবার তো পুরো লস হলো।
রাজারহাটের বৈদ্যের বাজার এলাকার কৃষক জগদীশ চন্দ্র সরকার বলেন, তার প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। অনেক ওষুধ দিয়েও কাজ হয়নি। পরে আক্রান্ত ধানগাছ কেটে গরুকে খাইয়েছেন।
স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতা কাইয়ুম সরকার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবসা করছি। কিন্ত আমন ধান ক্ষেতে এ ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি। গত বছর দু-একটি গাছে পোকা দেখা গেলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। এবার বিভিন্ন জমিতে পোকার উপস্থিতি বেড়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা কোনো রোগ নয়, এটি গাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকা। এর আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পাতা হলদে হয়ে যায় এবং তীব্র আক্রমণে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে। আগের বছরগুলোতে কুড়িগ্রামের আমন ধান ক্ষেতে এ পোকার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে জমিতে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও চলছে। সঠিক সময়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব।