কুড়িগ্রামের উলিপুরে জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে নির্মাণাধীন বাড়িতে ভাঙচুর ও নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ সরাইপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাড়ির মালিক মো. মালেকুজ্জামান।
এ ঘটনায় রোস্তম আলী, মোহাম্মদ আলী ও আব্দুল মতিনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে দশজনকে আসামি করে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মালেকুজ্জামান।
৭ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে না উলিপুর
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মালেকুজ্জামানের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ঘটনার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার নির্মাণাধীন বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে পাঁচটি নির্মাণাধীন পাকা কক্ষ, ছাদ ঢালাই করা দুটি কক্ষ ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালেকুজ্জামানের দাবি, ভাঙচুরে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তারা পাশের মাটিয়াল আল মোজাদেদিয়া দ্বীনি দাখিল মাদরাসায় আশ্রয় নেন।
উলিপুরে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে এসে শিক্ষকের মোটরসাইকেল চুরি
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
অভিযোগকারীর দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় ভাঙচুর বন্ধ থাকলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ভাঙচুর চালানোহ হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাড়ি থেকে টিন, কাঠ, সিমেন্ট, লোহার দরজা, শাটার, জানালা, রড ও ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য নয় লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা। ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়াসহ মোট ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মালেকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
উলিপুরে মাদরাসায় গোপনে নিয়োগের অভিযোগ, অর্থের বিনিময় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রোস্তম আলী ও মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের জায়গায় মালেকুজ্জামান ও ইস্রাফিলরা জোর করে দেয়াল তুলছেন। তাই আমরা ইটের দেয়াল ভেঙে দিয়েছি। তাদের দাবি, জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।