সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
এই মাত্র পাওয়া খবর::
নোটিশঃ
*** কুড়িগ্রামনিউজ২৪.কম এ আপনাকে স্বাগতম * * * সবার আগে  জেলার খবর জানতে চোখ রাখুন***

কুড়িগ্রামে আমন ধানে ছাতরা পোকার আক্রমণ, উদ্বিগ্ন কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ন



কুড়িগ্রামে আমন ধান ক্ষে‌তে ছাতরা পোকা বা মিলিবাগের আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন এলাকার ধান ক্ষে‌তে এ পোকার উপস্থিতি বাড়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, বালাইনাশক স্প্রে করেও তেমন সুফল মিলছে না।
তাদের ভাষ্য, আগের বছরগুলোতে এ পোকার তেমন আক্রমণ দেখা যায়নি। চলতি আমন মৌসুমে বিভিন্ন জমিতে পোকার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকার ধান ক্ষে‌তে ঘুরে দেখা গেছে, আক্রান্ত গাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলা বা মোমের মতো আবরণ তৈরি হয়েছে। এর নিচে রয়েছে ছোট ছোট পোকা। আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যাচ্ছে, বৃদ্ধি কমছে। কোনো কোনো গাছ শুকিয়ে পু‌ড়ে যাওয়ার ম‌তো দেখা যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কুড়িগ্রামে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ২১ হাজার হেক্টর। এর বিপরীতে চাষাবাদ হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে।
ত‌বে কৃ‌ষি সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন, ছাতরা পোকার আক্রমণ থেকে আমন ধান রক্ষায় নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করে আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করতে হবে। আক্রান্ত জ‌মি‌তে বালাইনাশক নাশক স্প্রে কর‌তে হ‌বে। যেসব গাছ আক্রান্ত হ‌য়ে‌ছে সেসব গাছ কে‌টে আগু‌নে পু‌ড়ে ফেলত হ‌বে এবং আক্রান্ত জায়গার গাছ কাটার পর মা‌টি‌তে স্প্রে কর‌তে হবে। দি‌নের শেষভা‌গে অন্তত পরপর দুইবার তিন থে‌কে পাঁচ দি‌নের মাথায় বালাইনাশক স্প্রে কর‌তে হ‌বে। আক্রান্ত জ‌মি‌তে সেচ ব‌্যবস্থা চালু রাখ‌তে হ‌বে।  আক্রান্ত গাছের সংখ্যা ও পোকার বিস্তার বিবেচনায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিতে হবে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। ফ‌লে নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষিতে এর প্রভাব পড়ছে। এতে ফসলে নানা রোগবালাই এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে।
উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের খাওনারদরগা এলাকার কৃষক আকবর আলী বলেন, এ মৌসুমে এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান লাগাইছি। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ছাতরা পোকা আক্রমণ করেছে। এবার তো পুরো লস হলো।
রাজারহাটের বৈদ্যের বাজার এলাকার কৃষক জগদীশ চন্দ্র সরকার বলেন, তার প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। অনেক ওষুধ দিয়েও কাজ হয়নি। পরে আক্রান্ত ধানগাছ কেটে গরুকে খাইয়েছেন।
স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতা কাইয়ুম সরকার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে ব্যবসা করছি। কিন্ত আমন ধান ক্ষে‌তে এ ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা যায়‌নি। গত বছর দু-একটি গাছে পোকা দেখা গেলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। এবার বিভিন্ন জমিতে পোকার উপস্থিতি বেড়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা কোনো রোগ নয়, এটি গাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকা। এর আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পাতা হলদে হয়ে যায় এবং তীব্র আক্রমণে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে। আগের বছরগুলোতে কুড়িগ্রামের আমন ধান ক্ষে‌তে এ পোকার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে জমিতে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও চলছে। সঠিক সময়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব।


এই বিভাগের আরও খবর....
Developed by- Ansari IT